বাঙালী জাতীয়তাবাদ রক্ষা
সব জাতী, গোষ্ঠী বা সপ্রদায়ের নিজস্ব ভুখন্ড, নিজস্ব ভাষা ও নিজস্ব সংস্কৃতি থাকে। কিন্তু এর মাঝেই সবাই মিলেমিশে বিশাল ভুখন্ডে একটি রাষ্ট্রে বসবাস করে। এই রাষ্ট্র ব্যাবস্থার দায়িত্ব হচ্ছে ভিন্ন ভিন্ন আচারের মানুষ গুলোর মাঝে সমতা আনা। যদি তা না হয়, রাষ্ট্র যদি ভিন্ন আচরন করে। তাহলে ঐ রাষ্টের অবহেলিত জনগোষ্ঠী নিজ রাষ্ট্রব্যবস্থার বিরূদ্ধে যুদ্ধ ঘোষনা করে। ১৯৪৭ ভারত বর্ষ বিভাগের সময় দ্বিজাতী তত্বের ভিত্তিতে দেশ ভাগ হয়। মুসলিম সংখা গরিষ্ঠ হওয়ায় আমাদের দেশকে পাকিস্থানের অন্তর্ভুক্ত করাহয় ও পূর্ব পাকিস্থান নাম করাহয়। কিন্তু দেশ বিভাগের পর হতেই পাকিস্থানীরা আমাদের উপর আত্যাচার শূরু করে। তারা আমাদের ভাষা, আমাদের সংস্কৃতিকে আঘাত করে। আমরা সেটা বুঝতে পেরেই মুক্তিযুদ্ধ শুরু করি। রক্তক্ষয়ি যুদ্ধের মাধ্যমে আমাদের স্বাধীনতা আসে। আমরা ফিরে পাই স্বাধীনতা, ফিরে পাই মায়ের ভাষা। আমরা যুদ্ধ করে স্বাধীনতা এনেছি কিন্তু সেই আমরাই এই ভুখন্ডে বসবাসরত কয়েকটি জনগোষ্ঠীকে পরাধীনতার শেকলে বেধে রেখেছি। এই স্বাধীন দেশে পাহাড়ীরা চেয়েছিল তাদের ভাষার অধিকার, নিজস্ব সংস্কৃতির অধিকার। আমরা তা দিতে পারিনি। ১৯৭৩ সালের ২ ডিসেম্বর জতীয় সংসদে বাঙালী জাতীয়তাবাদের বিলটি আনা হলে আদিবাসী নেতা সাংসদ এম এন লারমা এর বিরোধিতা করেন। তখন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান এম এন লারমাকে লক্ষ্য করে বলেন তোমরা বাঙালী হয়ে যাও। উত্তরে লারমা বলেন না, আমরা বাঙালী হতে চাই না। কারন আমার বাবা, আমার দাদা তো কখনো বলেনি আমি বাঙালী, আমাদের নিজস্ব ভাষা আছে, নিজস্ব সংস্কৃতি আছে। আমরা বাংলাদেশের অখন্ডতা চাই না, তবে আমাদের অধিকার চাই। কিন্তু সেইদিন সেই পাহাড়ী নেতার কথা শোনা হয়নি। সংখ্যাগড়িষ্ঠতার ভিত্তিতে আইন পাশ হয়। এর পরে এম এন লারমা সংসদ হতে ওয়াক আউট করেন। তার নেত্রীত্বে গঠিত হয় শান্তি বাহিনী, শুরু হয় সসস্ত্র সংগ্রাম। তারা সরকারের কাছে তাদের দাবী দাওয়া পেশ করে। সরকার তাদের দাবী উপেক্ষা করে তাদের দমনে পাহাড়ে সেনা বাহিনী পাঠায়। সেই থেকে শুরু হয় অলিখিত সেনা শাসন। বাঙালীদের পূনর্বাসনের কথা বলে সেখানে পাড়ীদের জমি দখল করা হয়। সেটেলার বাঙালী ও সেনা সদস্য মিলে শুরু করে নির্যাতন। তারা পাহাড়ী মেয়েদের ধর্ষণ করে, তাদের জমি দখল করে, এভাবেই চলতে থাকে কিছু বিপ্লবীকে দমনের চেষ্টা। আমি এক পাহাড়ী নেতার বিবৃতি পড়েছিলাম সে বলেছিল ” তোমরা যদি তোমাদের জমি শোষক গোষ্ঠীর হাতে তুলে দাও তাহলে তোমাদের বোন, স্ত্রী ও মা কেও একদিন তদের হাতে তুলে দিতে হবে”। আমরা এই কথাটিকে কি ভাবে নিব। আমরা কি ভুলে যাব তারা কেন লড়ছে, কেন অস্ত্র ধরেছে? আমরাওতো আমাদের ভাষার জন্য লড়েছি, আমাদের অধিকার ও সংস্কৃতির জন্য লড়েছি। তাহলে ওদের কেন সেই অধিকার দেব না। এই ক্ষেত্রে আমাদের আন্তরিক হতে হবে। শুধু শান্তি চুক্তি করলে হবে না তা বাস্তবায়ন করতে হবে। তা না হলে সমস্যা থাকবেই। পাহাড়ী বাঙালী বিবাদ লাগবেই। আমরা লোকবল, অর্থ ও প্রশাসনিক শক্তি নিয়ে লড়ব ওদের সাথে। মৃত্যুপুরিতে পরিনত হবে পাহাড়ী জনপথ,আর বিপন্ন হবে মানবতা।
Comments
Post a Comment