কমরেড জসিম উদ্দিন মন্ডল-এর সংক্ষিপ্ত জীবনী।
বামপন্থী বৃটিশবিরোধী আন্দোলনের অন্যতম বর্ষীয়ান নেতা ও প্রখ্যাত শ্রমিক নেতা কমরেড জসিম মন্ডল আজ ২রা অক্টোবর সোমবার সকাল ৬টায় ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন। বার্ধক্যজনিত অসুস্থতায় তাঁকে ৩০শে সেপ্টেম্বর ঢাকার হেলথ এন্ড হোপ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। মৃত্যকালে তার বয়স হয়েছিল ৯৫ বছর।
১৯২২ সালে অবিভক্ত ভারতের নদীয়া জেলার কালিদাসপুর গ্রামে তিনি জন্ম গ্রহণ করেন। যুব বয়সে ১৯৩৯ সালে তিনি রেল ইঞ্জিনে কয়লা ফেলার শ্রমিক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। এ থেকে শ্রমিক শোষণের চিত্র দেখে তিনি প্রতিবাদী হয়ে ওঠেন। একদিকে দারিদ্রতা অন্যদিকে অত্যাচার তাকে বিৃটিশ রেল কোম্পানীর বিরুদ্ধে ধীরে ধীরে আন্দোলনে উদ্বুদ্ধ করে, তিনি হয়ে ওঠেন জীবনের রেলগাড়ির অগ্রযাত্রার পথিক।
সুস্থ থাকাকালীণ স্মৃতিচারণে তিনি অনেক কথাই বলেছেন। তার পিতা হাউস উদ্দিন মন্ডলও রেলওয়েতে চাকুরি করতেন। বাবার পোস্টিং ছিল শিলিগুড়িতে। তখন বেতন ছিল ১৩ টাকা। এরপর ১৯২৫ সালে তাঁর পিতা বদলি হন সৈয়দপুরে। কিশোর বয়সেই জসিম মন্ডল দেখা পেয়েছিলেন মহাত্মা গান্ধীর। তখন তিনি জানলেন অসহযোগ আন্দোলনে যোগ দেওয়া ব্যক্তিদের কথা। পাশের বাসার বাবার এক বন্ধু স্বদেশী বাবুর কাছে শুনেছিলেন স্বদেশীর গল্প, মাস্টারদা, বাঘা যতীন, প্রীতিলতারা তখন অসহযোগ আন্দোলনের নায়ক-নায়িকা। সে সময় তাঁরা ধুতির কোচায় পিস্তল গুঁজে রাখতেন, বোমা ফাটাতেন। এসবই ছিল নাকি তাদের কাজ। তিনিও হয়ে গেলেন লাল ঝান্ডা পার্টির কর্মী।
তখন অল ইন্ডিয়া কমিউনিস্ট পার্টির সভাপতি মোজাফফর আহমেদ এর সাথে দেখা করতে গিয়ে তার সৌভাগ্য হয়েছিল বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামকে দেখার। কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের সান্নিধ্যেও এসেছিলেন তিনি।
এরপর ১৯৪২ এর আগস্ট শুরু হয় ঐতিহাসিক ভারত ছাড় আন্দোলন বৃটিশদের বিরুদ্ধে। চাকুরি করা তখন বেশ কঠিন ছিল। মাসে ১৭ টাকা বেতনে সহকারি ফায়ারম্যান হিসেবে চাকুরি করতে হতো।
পাকিস্তানামলে জসিমউদ্দিন মন্ডল উত্তরাঞ্চলসহ দেশের বিভিন্ন শ্রমিক এলাকায় সক্রিয়ভাবে আন্দোলন সংগ্রামে জড়িয়ে পড়েন। অনেকবার তিনি কারাভোগ করেছেন। তিনি শ্রমিক-জনসভাগুলোতে সাধারন ভাষায় সুন্দরভাবে বক্তব্য দিতে পারতেন বলে তাঁর সমাবেশগুলোতে প্রচুর মানুষ উপস্থিত হতো।
তার স্ত্রী ও বড় ছেলে ইতিপূর্বে মারা গেছেন, বর্তমানে তার ৫ মেয়ে ও নাতি-নাতনি রয়েছেন।
পাবনা জেলা কমিউনিস্ট পার্টির সাধারন সম্পাদক আহসান হাবিব জানান, ঢাকায় পার্টি অফিসের আনুষ্ঠানিকতা শেষে তার লাশ ঈশ্বরদীতে এনে দাফন করা হবে।
১৯২২ সালে অবিভক্ত ভারতের নদীয়া জেলার কালিদাসপুর গ্রামে তিনি জন্ম গ্রহণ করেন। যুব বয়সে ১৯৩৯ সালে তিনি রেল ইঞ্জিনে কয়লা ফেলার শ্রমিক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। এ থেকে শ্রমিক শোষণের চিত্র দেখে তিনি প্রতিবাদী হয়ে ওঠেন। একদিকে দারিদ্রতা অন্যদিকে অত্যাচার তাকে বিৃটিশ রেল কোম্পানীর বিরুদ্ধে ধীরে ধীরে আন্দোলনে উদ্বুদ্ধ করে, তিনি হয়ে ওঠেন জীবনের রেলগাড়ির অগ্রযাত্রার পথিক।
সুস্থ থাকাকালীণ স্মৃতিচারণে তিনি অনেক কথাই বলেছেন। তার পিতা হাউস উদ্দিন মন্ডলও রেলওয়েতে চাকুরি করতেন। বাবার পোস্টিং ছিল শিলিগুড়িতে। তখন বেতন ছিল ১৩ টাকা। এরপর ১৯২৫ সালে তাঁর পিতা বদলি হন সৈয়দপুরে। কিশোর বয়সেই জসিম মন্ডল দেখা পেয়েছিলেন মহাত্মা গান্ধীর। তখন তিনি জানলেন অসহযোগ আন্দোলনে যোগ দেওয়া ব্যক্তিদের কথা। পাশের বাসার বাবার এক বন্ধু স্বদেশী বাবুর কাছে শুনেছিলেন স্বদেশীর গল্প, মাস্টারদা, বাঘা যতীন, প্রীতিলতারা তখন অসহযোগ আন্দোলনের নায়ক-নায়িকা। সে সময় তাঁরা ধুতির কোচায় পিস্তল গুঁজে রাখতেন, বোমা ফাটাতেন। এসবই ছিল নাকি তাদের কাজ। তিনিও হয়ে গেলেন লাল ঝান্ডা পার্টির কর্মী।
তখন অল ইন্ডিয়া কমিউনিস্ট পার্টির সভাপতি মোজাফফর আহমেদ এর সাথে দেখা করতে গিয়ে তার সৌভাগ্য হয়েছিল বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামকে দেখার। কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের সান্নিধ্যেও এসেছিলেন তিনি।
এরপর ১৯৪২ এর আগস্ট শুরু হয় ঐতিহাসিক ভারত ছাড় আন্দোলন বৃটিশদের বিরুদ্ধে। চাকুরি করা তখন বেশ কঠিন ছিল। মাসে ১৭ টাকা বেতনে সহকারি ফায়ারম্যান হিসেবে চাকুরি করতে হতো।
পাকিস্তানামলে জসিমউদ্দিন মন্ডল উত্তরাঞ্চলসহ দেশের বিভিন্ন শ্রমিক এলাকায় সক্রিয়ভাবে আন্দোলন সংগ্রামে জড়িয়ে পড়েন। অনেকবার তিনি কারাভোগ করেছেন। তিনি শ্রমিক-জনসভাগুলোতে সাধারন ভাষায় সুন্দরভাবে বক্তব্য দিতে পারতেন বলে তাঁর সমাবেশগুলোতে প্রচুর মানুষ উপস্থিত হতো।
তার স্ত্রী ও বড় ছেলে ইতিপূর্বে মারা গেছেন, বর্তমানে তার ৫ মেয়ে ও নাতি-নাতনি রয়েছেন।
পাবনা জেলা কমিউনিস্ট পার্টির সাধারন সম্পাদক আহসান হাবিব জানান, ঢাকায় পার্টি অফিসের আনুষ্ঠানিকতা শেষে তার লাশ ঈশ্বরদীতে এনে দাফন করা হবে।

Comments
Post a Comment